টিপস

রাতে কুয়াশায় দুর্ঘটনা রোধে যে নিয়মে গাড়ি চালাবেন


রাতে গাড়ি চালানো এমনিতে ঝুঁকির। রাতে যদি কুয়াশা থাকে তবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। একে তো রাতের বেলায় মানুষের দৃষ্টিসীমা কমে যায়। অন্যদিকে কুয়াশা দৃষ্টিসীমা আরোও কমিয়ে দেয়। তাই কুয়াশার রাতে গাড়ি চালানোর জন্য বিশেষ কৌশল ও দক্ষতা জরুরি। কিছু নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনা কমানো যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বিশেষ করে শীতকালে সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হচ্ছে ঘন কুয়াশা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলেও কখনোই যান চলাচল বন্ধ করা হয় না।

তিনি বলেন, কুয়াশার কারণে রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় অনেক ক্ষেত্রে সামনের গাড়ি দেখা বা এর দূরত্ব আঁচ করা যায় না। যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।

কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে গেলে গাড়ি না চালিয়ে রাস্তার পাশে নিরাপদে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করাটা জরুরি। কুয়াশা পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে দৃষ্টিসীমা স্বাভাবিক হলে তারপর গাড়ি চালানো উচিত।

বাংলাদেশে সকালের দিকে কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা বেশি হয়। কারণ এ সময়ে চালকদের ঘুম না হওয়ার কারণে ঝিমঝিম ভাব থাকে আর সেই সাথে কুয়াশা থাকার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।

কুয়াশায় গাড়ি ধীরে চালানোর নিয়ম থাকলেও যাত্রী বেশি পাওয়ার লোভে কিংবা যাত্রীদের চাপ থাকার কারণে অনেক সময় তাদের গাড়ির গতি কমানো হয় না। যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।

এছাড়া বাংলাদেশে মালবাহী যানবাহন রাত এবং সকালের একটি নির্দিষ্ট সময়ে শহরাঞ্চলে প্রবেশ ও বের হওয়ার নিয়ম থাকার কারণেও অনেক সময় চালকরা গতি কমিয়ে গাড়ি চালাতে আগ্রহী হয় না।

ঘন কুয়াশায় গাড়ি চালানোর বিষয়ে নানা ধরণের সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এগুলো হচ্ছে-

কুয়াশায় দৃষ্টিসীমার মধ্যে থামানো যায় এমন ধীর গতিতে সব সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে রাস্তায় গাড়ি চালাতে হবে। ফগ লাইট এবং পার্কিং লাইট জ্বালিয়ে রাখতে হবে। লেন পরিবর্তন বা ওভারটেকিং করা যাবে না। কারণ পেছনের গাড়ি ঘন কুয়াশায় সামনের গাড়িকে নাও দেখতে পারে।

হাই বিম কুয়াশাকে আরো বেশি ঘন করে বিধায় হাই বিমে গাড়ি চালানো যাবে না। সব সময় লো-বিমে গাড়ি চালাতে হবে।

কুয়াশা যেহেতু একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে হয় তাই সবার আগে আবহাওয়া কুয়াশার বিষয়ে পরিসংখ্যানের মাধ্যমে তথ্য নিতে হবে।

তবে দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলতে হলে অতিরিক্ত ঘন কুয়াশা কোন রাস্তায় দেখা গেলে সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পদক্ষেপ নিতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button